
সন্তু মিত্র
ক্লান্তিহীন আকাশ,
বহমান ইতিহাসের নীরব সাক্ষী।
কবির কল্পনা সেখানে অবাধে বিচরণ করে,
জন্ম দেয় স্বপ্ন, রঙ আর অদম্য উদ্যমের।
প্রকৃতি ফিরে পায় পূর্ণ যৌবন,
মানুষ আবার গড়ে তোলে ঘর,
যৌথ জীবনের আশ্রয়,
ঘরে ফেরার গান।
নক্ষত্রমালা জানিয়ে দেয়
নতুন পৃথিবীর সন্ধান
আমরা যুগের পর যুগ বেঁচে থাকি,
তবু এ জীবন কেবল নিঃশ্বাসের হিসাব নয়।
এ বাঁচা সেই গতানুগতিক বেঁচে থাকা নয়।
এ যেন লৌকিক আর অলৌকিকের
অবিরাম সংঘর্ষ পেরিয়ে এগিয়ে চলা,
প্রসারমান মহাবিশ্বের
অসংখ্য প্রাণের অনন্ত অভিযাত্রা।
হয়তো একদিন আমরা হারিয়ে যাব,
মুছে যাবে নাম, মুখ আর পরিচয়।
সত্যি কি আমরা হারিয়ে যাব?
নাকি পৌঁছে যাব
কোনো দূর গ্যালাক্সির আলোয়?
আমাদের ভাবনা কোথায়, কত দূর পৌঁছায়?
সুপারনোভার বিস্ফোরণের মত
নাকি আলোকবর্ষেরও ওপারে,
চিন্তার জন্ম কোথায়?
কবে মানুষের প্রথম প্রশ্ন করা শুরু?
মহান হওয়ার আকাঙ্ক্ষা
কে প্রথম রোপণ করেছিল হৃদয়ের গভীরে!
মৃত্যু কি সত্যিই থামিয়ে দেয় ভাবনাকে!
যদি তাই হতো,
তবে যুগসন্ধিক্ষণে জন্ম নেওয়া নারী-পুরুষ
কিভাবে এখনো জীবন্ত ?
কিলবিল করে অগণিত জল্পনা-কল্পনা,
আর মহাকাল এগিয়ে চলে
নিজস্ব নীরব ছন্দে।
সেই চলার ভেতরেই লুকিয়ে থাকে
সভ্যতার নির্মাণশিল্প,
অনাবদ্ধ চিন্তাই জন্ম দেয় সৃজনশীলতার।
Discover more from পথের দাবী
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

