


বাউলশিল্পী আবুল সরকারের নিঃশর্ত মুক্তি এবং মানিকগঞ্জে বাউলশিল্পীদের ওপর হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে শুক্রবার বিকেলে ‘গানের আর্তনাদ’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল ‘সম্প্রীতি যাত্রা’ নামে লেখক, শিল্পী, অধিকারকর্মী ও বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মীদের একটি প্ল্যাটফর্ম।
পাশেই ‘ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাতকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা ও জাতীয় সম্প্রীতি বিনষ্টে উদ্ভুত সাংস্কৃতিক চক্রান্তের বিরুদ্ধে জাতীয় মূল্যবোধ রক্ষায় জুলাই সমাবেশের’ আয়োজন করে জুলাই মঞ্চ নামে সংগঠনটি।
গানের আর্তনাদ অনুষ্ঠানে হামলা জুলাই মঞ্চের, ছাত্র জনতার হাতে প্রতিহত
এসময় তারা ‘গানের আর্তনাদ’ অনুষ্ঠানে মঞ্চে এসে বিরোধিতা করে স্লোগান দিলে দুইপক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন শিল্পী ও চিন্তক অরূপ রাহী। এরপর বাউল গান পরিবেশন করেন বাউল আলমগীর সরকার। আলমগীর সরকার গান গেয়ে নামার পর শিল্পী কৃষ্ণকলি ইসলাম বক্তৃতা রাখার জন্য মাইকের সামনে আসতেই মঞ্চের পেছন থেকে জুলাই মঞ্চ নামধারী একদল দুর্বৃত্ত “গানের আর্তনাদ” -এর মঞ্চের দিকে ধেয়ে আসে। তারা আবুল সরকারের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত অনুষ্ঠান বন্ধের জন্য চাপ দিতে থাকে। এ সময় তারা “দিল্লি না ঢাকা” ইত্যাদি স্লোগান দেয়।আয়োজকরা জানান বাউলদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত ‘গানের আর্তনাদ’ কর্মসূচিতে ‘জুলাই মঞ্চ’র আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বে বাধা দেওয়া হয়েছে, হামলা করা হয়েছে।“জুলাই মঞ্চ” নামের সংগঠনের কর্মীরা মঞ্চের ব্যাকড্রপ ভেঙে ফেলে এবং আয়োজকদের উপর চড়াও হয়। এসময় তারা অনুষ্ঠান পণ্ড করার চেষ্টা করে। তবে ছাত্র জনতা তাদের প্রতিহত করে।
শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে অনুষ্ঠানস্থল শাহবাগ জাতীয় গ্রন্থাগারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। বাউল আবুল সরকারের গ্রেপ্তার ও বাউলদের উপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত প্রতিবাদী এ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল শাহবাগ জাদুঘরের সামনে। একই স্থানে অন্য আরেকটি প্রোগ্রাম থাকায় অনুষ্ঠানটির ভেন্যু সামান্য সরিয়ে জাতীয় গ্রন্থাগারের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়।
এসময় মঞ্চে ছিলেন, বিশ্ব সুফি সংস্থার সদস্য হাসান শাহ সুরেশ্বরী দিপু নূরী, লেখক গবেষক নাহিদ হাসান নলেজ, চলচ্চিত্রকার আকরাম খান, লেখক শিক্ষক নাভিন মুরশিদ, শিল্পী অমল আকাশ, লেখক ও সংগঠক ফেরদৌস আরা রুমি, বাসদ (মার্কসবাদী)র সমন্বয়ক মাসুদ রানা, শিল্পী কৃষ্ণকলি ইসলাম, লেখক ও শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা ঋতু, লেখক এক্টিভিস্ট বাকী বিল্লাহ, আসলাম সরকার, শিল্পী বীথি ঘোষ, রেবেকা নীলা, শিক্ষক শর্মী হোসেন
প্রমুখ।
সেখানে আয়োজকদের পক্ষে থেকে বক্তব্য দেন লেখক, এক্টিভিস্ট বাকী বিল্লাহ। তিনি বলেন, আজকে আমাদের উপর একটা ন্যাক্কারজনক হামলার চেষ্টা হয়েছে এবং ছাত্র জনতা তাদের প্রতিহত করেছে।
অথচ প্রতিহত করার দায়িত্ব ছিল সরকারের। আজ যদি আমাদের পক্ষ থেকে প্রতিহত করা না হতো, ওই সন্ত্রাসীরা যে সহিংস তৎপরতা চালাতো এবং যে ক্ষয়ক্ষতি হতো তার সম্পূর্ণ দায় নিতে হতো রাষ্ট্রের। সুতরাং শাহবাগ থানার পুলিশ যে নিষ্ক্রিয় ছিল আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। কর্মসূচিতে ছাত্রফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক বলেন,
বাকী বলেন, আমাদের নিজেদের রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের না। আমরা রাষ্ট্রকে খাজনা দিই, টেক্স দিই, রাষ্ট্র সরকার আমরা চালাই, আমাদের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব তাদের। এইটা শুধু আমাদের না, সরকারেরও জন্যও এই নিরাপত্তা দরকার। পুলিশের কাজ সেই নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করা।মঞ্চ থেকে অনুষ্ঠানের উপস্থাপক সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ তখন মাইকে বলতে থাকেন, এটি একটি গণতান্ত্রিক দেশ। আমরা সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও শান্তপূর্ণ উপায়ে আমাদের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আপনারাও আপনাদের দাবি জানাতে পারেন শান্তিপূর্ণ উপায়ে। কিন্তু আপনারা (জুলাই মঞ্চের কর্মীরা) যেভাবে মব তৈরি করে, গায়ের জোরে আমাদের প্রতিবাদ দমন করতে এসেছেন তা নিন্দনীয়। তা কোনোভাবেই জুলাই অভ্যুত্থানের স্প্রিরিট ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আপনার এ ধরনের সন্ত্রাসী কায়দার আমাদের আয়োজন বন্ধ করতে পারেন না। এসময় তিনি সমবেত সকলকে শান্ত থাকার আহবান জানান। কিন্তু কথিত জুলাই মঞ্চের কর্মীরা তখন “গানের আর্তনাদ” অনুষ্ঠানের ব্যাকড্রপ ভেঙে ফেলেন। এ সময় দু পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সম্প্রীতি যাত্রার আয়োজক ও অনুষ্ঠান দেখতে আসা নাগরিকরা জুলাই মঞ্চের কর্মীদের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে ছাত্র জনতার প্রতিরোধের মুখে তারা পিছু হটে। এ সময় সম্প্রীতি যাত্রার কর্মী, বাউল সম্প্রদায়ের লোকজন এবং দর্শকদের শান্ত ও সহনশীলতা প্রদর্শন করতে দেখা যায়। এক পর্যায়ে তারা ভাঙা ব্যাকড্রপ কোনো রকম জোড়া দিয়ে টানিয়ে দেয় এবং অনুষ্ঠান যথারীতি শুরু হয়। এরপর একে একে চলে বক্তৃতা গান।
গান শেষে একটি মশাল মিছিল অনুষ্ঠানস্থল থেকে শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়।
অন্যদিকে “জুলাই মঞ্চের” সংগঠকরা জানান আগে তাদের ওপর উস্কানিমূলক হামলা করা হয়।
বাউল শিল্পী আবুল সরকার
আবুল সরকারের মুক্তি দাবি
শাহবাগ সংঘর্ষ
গানের আর্তনাদ অনুষ্ঠান
জুলাই মঞ্চ হামলা
সম্প্রীতি যাত্রা কর্মসূচি
শাহবাগে বাউলদের ওপর হামলা
ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত বিতর্ক
মানিকগঞ্জ বাউল হামলা
ঢাকায় সাংস্কৃতিক আন্দোলন
শাহবাগ আজকের খবর
ছাত্র জনতার প্রতিরোধ
বাউল শিল্পীদের উপর হামলা
ঢাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা
বাংলাদেশ প্রতিবাদ সমাবেশ
