
মনজুরুল হক
প্রকাশক: ঐতিহ্য, প্রথম প্রকাশ: ২০১৭, প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ, পৃষ্ঠা: ১৮৪, মূল্য: ৩৫০ টাকা।

স্তালিন, যিনি সোভিয়েত রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক সমাজ, রাষ্ট্র ও অর্থনীতি বিনির্মানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং যিনি বিশ্বপুঁজিবাদের উপনিবেশগুলোর মুক্তিসংগ্রামের জোড়ালো সমর্থক ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মান পরাশক্তির বিরুদ্ধে সবচেয়ে মরণপণ সংগ্রামে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন, পরাজিত করেছিলেন জার্মান নাজিবাহিনীকে। নয়তো আজকের মানব সমাজের ইতিহাস ভিন্নভাবে লিখতে হতো। যুদ্ধে প্রায় আড়াইকোটি সোভিয়েত নাগরিকের মৃত্যু কয়েক কোটি মানুষ হয়েছিলো পঙ্গু। যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিলো প্রায় ১ হাজারেরও বেশি শহর, ৭০ হাজার গ্রাম, ৩২ হাজার শিল্প সংস্থা, ৯৮ হাজার যৌথ ও রাষ্ট্রীয় খামার। যুদ্ধ পরবর্তী এসব ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশকে নিয়ে গিয়েছিলেন উন্নয়নের চরম শিকরে। যখন ইউরোপের অন্যান্য পুঁজিবাদী দেশগুলো মার্কিন অনুদানে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টায় লিপ্ত। সেই স্টালিনকেই পুঁজিবাদী বিশ্ব সবচেয়ে ঘৃণীত ও স্বৈরশাসক বলে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত করার অপচেষ্টা ও প্রচারাভিযান চালিয়েছে। আজো ‘স্তালিন’ এই নামটি পুঁজিবাদী বিশ্বের আতঙ্ক।
এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বাংলায় লেখা মনজুরুল হকের “স্তালিন মিথ্যাচার এবং প্রাসঙ্গিকতা” একটি শক্ত জবাব। বইটিতে স্টালিন বিরোধি অপপ্রচারে হিটলার থেকে মার্কিন ধনকুবের উইলিয়াম হার্স্ট, ব্রিটিশ গুপ্তচর সংগঠনের এজেন্ট কনকোয়েস্ট ও সোভিয়েত লেখক সোলঝিনিৎসিন যিনি প্রতিবিপ্লবী কার্যক্রমের জন্য সাজাভোগ করেছিলেন। স্তালিনের মৃত্যুর পর সোভিয়েত পার্টি ও রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা নিকিতা ক্রুশ্চেভও ছিলেন স্টালিন বিরোধিতার সবচেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব। অথচ স্টালিন জীবিতাবস্থায় যিনি স্তালিনের প্রিয়ভাজন শুধু নয়, ছিলেন স্তালিন প্রশ্নে সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠ।
তথ্য সমৃদ্ধ এই বইটি তাদের জন্য সবচেয়ে বেশি কাজে দেবে যারা পৃথিবীতে ব্যক্তিমালিকানার বিপরীতে গণমালিকানা প্রতিষ্ঠার নজির ও সাফল্য কেন ব্যর্থ হলো তার কারণগুলো অনুসন্ধান করতে চান তাদের। সেই সাথে সকল পাঠকদের স্তালিন সম্পর্কে অপপ্রচারের কারণগুলো বুঝতে সহায়ক হবে।





