
‘বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি’এর পক্ষ থেকে লেখক মোহাম্মদ শামছুজ্জামান রচিত উপন্যাস “নিষুপ্ত জাগরণ” এর ওপর আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। গত ২০ জুন, শনিবার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের অডিটোরিয়ামে এই আলোচনা অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি পত্রিকার সম্পাদক মণ্ডলীর সিনিয়র সদস্য কবি মাহফুজ সালাম। সঞ্চালনায় ছিলেন কবি ও প্রাবন্ধিক রিয়াজ মাহমুদ, প্রথমে বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি পত্রিকার বিষয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি পত্রিকার নির্বাহি সম্পাদক লেখক নাজনীন সাথী। আবুল হুসেন ও নিষুপ্ত জাগরণের লেখক মোহাম্মদ শামছুজ্জামান সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন কবি অনার্য নাঈম।
আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- যথাক্রমে সাহিত্যকর্মী তানজুম সাকিব, কবি ও সাংবাদিক ইমরান মাহফুজ, কবি ও চিত্রশিল্পী শিশির মল্লিক, কথাসাহিত্যিক মনি হায়দার, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি পত্রিকার সম্পাদক এবং কবি ও প্রাবন্ধিক আলমগীর খান, কবি ও সম্পাদক সৈকত হাবিব এবং লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক পাভেল চৌধুরী।
সভাপতির বক্তব্যের পূর্বে লেখক শামছুজ্জামান বইটি লেখার বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও তার ভাবনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোকপাত করেন।
উপস্থিত কবি, শিল্পী ও সংস্কৃতি কর্মীদের ভিড়ে অনুষ্ঠানটি বেশ প্রাণবন্ত ছিলো। বিকাল সাড়ে চারটায় শুরু হয়ে সোয়া আটটায় আলোচনা অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়।
প্রধান অতিথির ভাষণে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আবুল হুসেনের জীবন ও সময়ের উপর আলোকপাত করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা যে মুসলিম সাহিত্য সমাজের জাগরণের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তা তুলে ধরেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি অংশ উপলব্ধি করেন বুদ্ধির মুক্তি ছাড়া মুসলিম জনগোষ্ঠী এগুতে পারবে না। সেই প্রচেষ্টার অন্যতম অনুঘটক ছিলেন আবুল হুসেন। সেই সাথে আব্দুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, ড. আনোয়ারুল কাদির, কবি আব্দুল কাদিরের ভূমিকা তুলে ধরেন। তাদের সেই প্রচেষ্টা ছিলো প্রগতির। কিন্তু তৎকালীন সমাজ সমাজের ক্ষমতাশালীদের ভালো লাগেনি। তারা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলো। আবুল হুসেনকে নিগ্রহ করা হয়েছিলো। কিন্তু জাতিরাষ্ট্র গঠনে মুসলিম সাহিত্য সমাজ ও বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক আবুল হুসেনকে পাঠ অতীব জরুরী বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আলোচকরা প্রত্যেকে লেখক শামছুজ্জামানকে আবুল হুসেনকে নিয়ে এতো বড়োমাপের একটি কাজ সম্পন্ন করায় ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁকে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে সম্মান জানান। লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক পাভেল চৌধুরী বলেন- আবুল হুসেনরা আক্রান্ত হয়েছেন, বাধাপ্রাপ্ত হয়েছেন যাদের দ্বারা তারা কারা? তারা সমাজের ক্ষমতাশালী মুসলমানদের দ্বারা। সাধারণ মুসলিমদের দ্বারা নয়। আবুল হুসেন নিজেও ছিলেন নিন্মমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তাই বাধাটা এসেছে ক্ষমতাসীন মুসলিম সমাজের পক্ষ থেকে। অতীত ও বর্তমানেও এই ক্ষমতাশালী শ্রেণী ও সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে সেই পার্থক্য রয়ে গেছে। তিনি শ্রেণী প্রশ্নটির ওপর গুরুত্ব দিয়ে আবুল হুসেনের নিগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরেন। বর্তমান আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের সাথে সাধারণের বিরোধের প্রসঙ্গটি ব্যাখ্যা করেন।
সবশেষে সভাপতির ভাষণে কবি মাহফুজ সালাম লেখক শামছুজ্জামানকে ধন্যবাদ জানান। বইটির সাফল্য কামনা করেন। প্রধান অতিথি এবং আলোচকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। শুভেচ্ছা জানান উপস্থিত সবাইকে।






