
শিশির মল্লিক
সমাজে শিল্পের ভূমিকা নিয়ে সমাজ-রাষ্ট্রের বোঝাপড়ার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে তা অস্বীকারের উপায় নেই। যদিও বিশ্বায়নের হাওয়ায় সমস্ত প্রাচীন মত পথ বিশ্বাসে ঢুকে পড়ছে বন্য স্রোত। খড়কুটোর মতো ভেসে যাচ্ছে সনাতন রীতি-নীতি আচার নিষ্ঠতা সমেত সম্পর্কের মজবুত পাটাতন। যৌথতা হয়ে পড়েছে অনাত্মীয়; একাকীত্ব-আত্মস্বার্থপরতা হয়ে উঠেছে আপন।
ধনতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থা হাজার হাজার বছরের কৃষিভিত্তিক সমাজের অর্থনৈতিক বুনিয়াদের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাজনীতি-সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের জায়গায় এনেছে নতুন অর্থনৈতিক সম্পর্কে গড়া রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ। জাতি হিসেবে আমরা কি এ মূল্যবোধ গ্রহণে প্রস্তুত ছিলাম? ইচ্ছা নিরপেক্ষভাবে এই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তি সমাজকে পাল্টাতে বাধ্য করে বৈকি! আমরা চাই বা না চাই মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। এই যে পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি আলোড়িত হন কারা? সমাজের সবচেয়ে সচেতন অংশ যারা বিভিন্ন সৃজনশীল জায়গায় কাজ করেন তারা। শিল্পী সাহিত্যিক কবি দার্শনিক চিন্তক বিজ্ঞানি শিক্ষক ও অন্যান্য সৃষ্টিশীল কাজে যুক্ত মানুষেরাই।
আমরা যারা শিল্পের নান্দনিক এরিনার মধ্যে কাজ করি, তারা কমবেশি আলোড়িত হই সমাজে ঘটে যাওয়া ঘটনায়। সামাজিক বাস্তবতা থেকে পরিত্রাণের পথ পন্থা উপায় নিয়ে ডুব দেই সৃজন পঠভূমিতে। মন/চেতনা রং রেখা ও ফর্মের ভেতর দিয়ে মূর্ত করে তুলি অজস্র আখ্যান। প্রতিটি আখ্যানে থাকে গল্প বা ইমেজ যা কোন না কোন ম্যাসেজ দেয় সমাজ রাষ্ট্রকে। এটাই শিল্প বা শিল্পীর দায়ও বটে।
সমাজের উপরিকাঠামোর এই দায় নিতে শিল্পী সচেতন কিংবা অবচেতনে এসব আখ্যান তৈরি করে চলে। কারণ শিল্পী নিজেই এই সমাজ বা পরিবেশের ভেতর বসবাস করে। মানব প্রজাতি যেহেতু একটি সামাজিক সত্তা, তাই সমাজের বাইরে তার কোন মানবিক অস্তিত্ব কল্পনাতীত। মানব চেতনা দৃশ্যমান উপলব্ধিজাত অভিজ্ঞতা ছাড়া কিছু নয়। তাই শিল্পী সাহিত্যিকেরা এই বাস্তবতার বাইরে যেতে পারে না। এরমধ্যেই নিয়তি বা অদৃশ্যের কথা আসে বৈকি। আমরা একে মানব সত্তার সীমাবদ্ধতা বা ট্র্যাজেডিও বলতে পারি।
মানুষ মাত্রেই ভীষণ রাজনৈতিক। এদিক থেকে মানবিক সত্তা মূলত রাজনৈতিক সত্তারই প্রতিরূপ বৈ কিছু নয়। শিল্পীরা এর বাইরে নয়, তাই তাদের অভিব্যক্তি এবং প্রকাশ অত্যন্ত রাজনৈতিক। শিল্পীরা সমাজের গভীরের ভালো কিংবা মন্দ, শুভ-অশুভ বোধকে সবার সম্মুখে উন্মোচন করে দিতে পারে। সেটা ভিজ্যুয়াল ইমেজের ভেতর দিয়ে সরাসরি কিংবা ইঙ্গিতময় অবজেক্ট তৈরির মাধ্যমে। আমরা পিকাসোর গুয়ের্নিকাকে সবচেয়ে রাজনৈতিক চিত্রকলা হিসেবে উল্লেখ করে থাকি। স্পেনে জার্মান বর্বরতার ওপর নির্মিত এই ছবিটি একটি ক্ল্যাসিক রাজনৈতিক শিল্পকলা হিসেবে স্থান লাভ করেছে। আমাদের দেশের চিত্রকলার পথিকৃৎ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের হাত ধরে ভারতীয় উপমহাদেশে উপনিবেশবাদ বিরোধি রাজনৈতিক শিল্পকলার যাত্রা শুরু হয়। যা বেঙ্গল স্কুলের বিপরীত একটি ধারা হিসেবে বিকশিত হয়েছে। জয়নুলের দুর্ভিক্ষের ছবি উপনিবেশে বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের নির্মম শোষণের দলিল হিসেবে সেই চিত্রকলা ক্ল্যাসিক রাজনৈতিক শিল্পকলা হিসেবে স্থান লাভ করেছে। পাকিস্তান পেরিয়ে বাংলাদেশ এই সুদীর্ঘকালে শিল্পীরা নানাভাবে সামাজিক বাস্তববাদের পাশাপাশি রাজনৈতিক ছবিও এঁকেছেন। নানাভাবে সমাজ রাষ্ট্রকে ম্যাসেজ দিয়ে গেছেন। কিন্তু আমাদের রাষ্ট্র ও রাজনীতির সাথে শিল্প ও শিল্পীর মাঝে রয়েছে বিপরীত মুখী অবস্থান। ফলাফল আজকের সমাজিক বাস্তবতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়- তারই জ্বলন্ত প্রমাণ নয় কি?
বর্তমান ধনতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থা ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানিক লাভালাভের স্বার্থকে মর্যাদা ও নিরাপত্তা দেয়। ফলস্বরূপ লাভালাভের লোভে প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্যকে ব্যবসায়িক পুঁজির স্বার্থে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ধনিক শ্রেণিটি আজকের প্রকৃতি ও পরিবেশের দূরাবস্থার জন্য প্রধানভাবে দায়ি হলেও পুরো বিশ্বের সাধারণ মানুষের কিছু করার নেই। কিন্তু শিল্পী সাহিত্যিক ও চিন্তকরা বিভিন্নভাবে সচেতন করার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রেখেছেন। আমাদের দেশের শিল্পী সাহিত্যিক চিন্তকরাও পিছিয়ে নেয়, তারাও সমাজ রাষ্ট্রকে ম্যাসেজ দিয়ে চলেছেন।
শিল্পী মহিউদ্দিন আহমেদ রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ ফরাসি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের আলিয়াঁস ফ্রসেস দ্য ঢাকার লা গ্যালারিয়াতে তার প্রথম একক চিত্রপ্রদর্শনী “অন্তর্গত প্রতীতি” বা ইনার সারটিটিউড এর মাধ্যমে আমাদের সমাজ রাষ্ট্রকে প্রকৃতি পরিবেশ ধ্বংস করে কথিত সভ্যতা বিনির্মানের আগ্রাসন বন্ধ করার আহ্বান রেখেছেন তার চিত্রভাষার মাধ্যমে। এই আয়োজনে প্রায় শতাধিক চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে। প্রতিটি ছবিতে প্রকৃতি পরিবেশ ও তার ওপর সভ্যতার আধিপত্যের প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া ফুটে উঠেছে।
প্রদর্শনীটির শুভ উদ্বোধন হয় ১০ জুলাই সন্ধ্যা ৬টায়। উদ্বোধন করেন দেশের খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী। উপস্থিত ছিলেন চিত্রশিল্পী সৈয়দ আবুল বারাক আলভী বক্তব্য রাখেন কবি ও চিত্রশিল্পী শিশির মল্লিক।
শুরুতে আয়োজনের হোস্ট আলিয়াঁস ফ্রসেসের পরিচালক ফ্রাঁসোয়া শমব্রো বলেন- “শিল্পীর শ্রমসাধ্য বিন্দু কৌশলটি জর্জেস সেরাট, পল সিনিয়াক এবং কিছুটা ভিনসেন্ট ভ্যান গগের নব্য-ইম্প্রেশনিস্ট শিল্পচর্চাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। এখানে, বিন্দুচিত্র কেবল একটি কৌশল নয়, বরং একটি ধারণাগত ভাষা: অগণিত স্বতন্ত্র বিন্দু একত্রিত হয়ে সহাবস্থান, ভঙ্গুরতা এবং পরিবেশগত রূপান্তরের জটিল আখ্যান তৈরি করে।”
শিল্পী মহিউদ্দিন আহমেদ তার শিল্পযাত্রার সংক্ষিপ্ত উল্লেখের মধ্যদিয়ে আজকের অবস্থানে আসার পেছনে তার সাংগঠনিক চর্চা ও ব্যক্তিজীবনের অনেকেই তার প্রেরণার উৎস বলে মন্তব্য করেন। চট্টগ্রাম চারুশিল্পী পর্ষদ-ঢাকার সাথে তার সম্পৃক্ততা তাকে শিল্পচর্চায় উদ্দিপ্ত রেখেছে বলে সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী বলেন- “আমার কাছে তাঁর কাজগুলোকে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ মনে হয়েছে। এগুলোর বেশিরভাগই আকারে ছোট। কলম ব্যবহার করে নিখুঁত টোনাল বৈচিত্র্য তৈরিতে তাঁর আশ্চর্যজনক দক্ষতা দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি, যা মেজোটিন্টের মতো একটি অনুভূতি দেয়। তাঁর বেশিরভাগ কাজই বস্তু-কেন্দ্রিক, কিন্তু পরিচিত বিষয়বস্তুর আকার ও বিকৃতির মাধ্যমে বিস্তারিত রূপদান সেগুলোকে আকারে ছোট হলেও বড় দেখায়। কম্পোজিশনও চিত্তাকর্ষক, যা এর মধ্যে থাকা কল্পনা এবং অর্থকে প্রকাশ করে। তিনি তাঁর সাদা-কালো ড্রইংগুলোতে অন্ধকার রাখতে পছন্দ করেন এবং বিষয়বস্তুর উপর নির্ভুলভাবে ক্ষীণ আলো ফেলেন। তিনি যেভাবে এটি করেন, তাতে কাজগুলো একটি শৈল্পিক রূপ লাভ করে। এই চর্চাগুলো তাঁর একটি নিজস্ব শৈলী তৈরি করেছে।”

ইনার সারটিটিউড নামে আয়োজিত প্রদর্শনীর কাজগুলোর শিল্পভাষা যেমন অর্থবহ তেমনি তার করণকৌশল উপস্থাপনাও বেশ সুন্দর। অত্যন্ত পরিশীলিত শ্রমলব্ধ ও অধ্যবসায়ি হিসেবে শিল্পী মহিউদ্দিনকে আমরা পাই। কালি কলমের স্বতন্ত্র অজস্র ডটের মাধ্যমে, ছোট ছোট লাইনের সমন্বয়ে তিনি তার ভাবনার দৃশ্যায়ন করেছেন। দৃশ্যায়নে কিছু ফর্ম বা অবয়ব যদি লক্ষ্য করি দেখা যাবে তিনি ঘুড়ি, ঝুড়ি টব, গ্লোব, চোখ, মাথার খুলি, গিটার পাহাড়, অট্টলিকা, আপেল, কাপ, মৌমাছি, মাছ, মাশরুম, এ্যাকুরিয়াম, বিরান প্রকৃতি, প্রকৃতির সুন্দর দৃশ্যায়ন বা তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য, হাতি প্রভৃতির আকারের ভেতর নানা ইমেজ ঢুকিয়েছেন। এগুলোর কিছু সিরিজও তিনি ভেবেছেন। যেমন সময়ের গল্প, প্রকৃতির সৌন্দয্য, প্রকৃতির প্রতিশোধ, প্রকৃতির পুনর্গঠন, ঐতিহ্যিক ভিত বা বন্ডিং নামের বেশকিছু সিরিজ। হাতির অবয়বে করা সিরিজটির নাম তিনি রেখেছেন ঐতিহ্যিক ভিত বা বন্ডিং। এখানে দেখা যাবে একটি হাতির অবয়বের ভেতরে প্রচুর ইমেজ যেমন পুরোনো প্রাসাদ, বিভিন্ন লোকজ মোটিফ, আধুনিক নগর, প্রকৃতি ও পরিবেশ সমাবেশিত হয়েছে। যাকে তিনি বলছেন আমাদের বর্তমান অবস্থা যতই খারাপ হোকনা কেন, আমাদের একটি শক্তিশালী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রয়েছে। তাকে আমি আমাদের জাতির শক্তি হিসেবে দেখাতে চেয়েছি। আবার বিপরীতদিকে থেকে দর্শকের কাছে প্রথম দেখাতে মনে হয়, এক দানবীয় সভ্যতা মানুষ গড়ে তুলেছে যা প্রকৃতি বিধ্বংসী রূপ নিয়েছে। এই দ্যোতনা বেশ উপভোগ্যই বলতে হবে। দর্শক ও শিল্পীর ভাবনার এই ভিন্ন পার্সপেক্টিভই শিল্পের সার্থকতা।
আরো দুটি ছবি নষ্টালজিক রিভাইভস নামে। এখানে মূল শেপটি ঘুড়ির যা দ্বারা প্রথমেই দর্শক একটা নস্টালজিক ইমোশনের মুখোমুখি হবে। তার পরক্ষণে দেখাযাবে তার ভেতর একটি সুন্দর প্রকৃতি ও পরিবেশের ছবি। যা পূর্বে এভাবেই প্রকৃতি অবারিত ছিলো। আজ যা হারিয়ে যাচ্ছে। সভ্যতার নামে, কথিত উন্নয়নের নামে। শিল্পীর ভেতর প্রকৃতির প্রতি অপরিসীম দরদ বা সাহানুভূতি তার এরকম বহু কাজের ভেতর দর্শক দেখতে পাবে।
প্রদর্শনীতে স্টোরি অব টাইম নামের ছোট কাজের কয়েকটি সিরিজ রয়েছে। এগুলো কোলাজ আকারে প্রদর্শন করা হয়েছে। এখানে অবসর সময়ে শিল্পীর কলমের খোঁচায় নানা বিষয়বস্তু বা উপাদান সংমিশ্রিত হয়ে এক অনন্য গল্প বা আখ্যান সৃষ্টি করেছে। অনেক শিল্পী বিষয়বস্তুর খরা অনুভব করেন। তাদের কাছে মহিউদ্দিনের এই কাজগুলো সাহস যোগাবে। করোনা নিয়ে তার বেশকিছু কাজ এ প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। তিনি বলেন, “আমি করোনাকে ইতিবাচকভাবে দেখেছি। দেখেছি প্রকৃতির দিক থেকে। প্রকৃতির অবসাদের বিলোপ দরকার ছিলো। প্রকৃতি এসময় বিশ্রাম নিয়েছে। মনুস্য প্রজাতি গৃহবন্দী থাকায়, অন্যন্য প্রাণী প্রাণবন্তভাবে নিজেদের উপভোগ করতে পেরেছে। প্রকৃতিরও তো ভালোমন্দের বিষয় রয়েছে। আমরা যা আমলে নিই না। তাই আমার ছবিতে করোনা নেতিবাচকের জায়গায় ইতিবাচক হিসেবে উঠে এসেছে।”

শিল্পী মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমাদের ফিরতে হবে প্রকৃতিকে মুক্ত ও নিরাপদ রেখে সভ্যতা বিনির্মানে মনোযোগি হওয়ার দিকে। নতুবা আমরা কেউই বাঁচবো না।”
তার কাজের ভাষা ও উপস্থাপনের শক্তিশালী দিক যেমন রয়েছে তেমনি কিছু দুর্বল দিকও রয়েছে। তার কাজের ধরণে পুরো পটভূমি ব্যবহার লক্ষণীয়। চতুষ্কোণ ক্যানভাসে ট্রাইএ্যাঙ্গেল, হরাইজেন্টাল, ভার্টিক্যাল, ওভাল অবজেক্টের সিমেট্রি দেখা যায়। দর্শক প্রতিটি ছবিতে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদ পাই। কিছু কিছু ছবিতে অত্যধিক ডটের ব্যবহার ছবির অবজেক্টকে ম্লান করে দিয়েছে। আলো ছায়ার কন্ট্রাস্ট রিপ্রেজেন্টেশনে তার আরো কৌশলি হতে হবে। এই ধরনের কাজে আলো ছায়ার যথাযথ ব্যবহার করতে পারলে পরিশ্রমও কিছুটা লাগব হয়। কারণ সরাসরি আলোর প্রক্ষেপনের জায়গাটি ছেড়ে দিতে পারলে সেখানে আর ডটের প্রয়োজন পড়ে না।
আমরা ইতোপূর্বে চিত্রশিল্পী মাইনুল ইসলাম শিল্পুর একটি প্রদর্শনী এই লা গ্যালারিয়াতেই দেখেছিলাম। শুধু ডটের কাজ দিয়ে ছোট বড় বিভিন্ন কাজের। এটিই সম্ভবত ডটের কাজের বাংলাদেশে প্রথম চিত্রপ্রদর্শনী ছিলো। তাঁর ছবির বিষয়বস্তু ছিলো মুক্তিযুদ্ধ। আর শিল্পী মহিউদ্দিনের বিষয়বস্তু প্রকৃতি ও পরিবেশ। শিল্পী মাইনুল ইসলামকে আমরা দেখেছি তিনি আলো ছায়ার ব্যবহারে অত্যন্ত সুকৌশলি এবং দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। এই প্রদর্শনী শিল্পী মহিউদ্দিনের মধ্যে একটি সাহস সৃষ্টি করে। এবং তিনি আলোড়িত হন। এই দুজন শিল্পীরই শিল্পগুরু হলেন আরেক খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী চন্দ্রশেখর দে। বাংলাদেশে কলমের ডটের সাহায্যে ছবির ধারণাটি সম্ভবত তিনিই প্রথম ব্যবহার করেন। ডটের কাজ করছেন এমন আরেকজন শিল্পী রয়েছে তিনি হলেন চিত্রশিল্পী গোলাম সারোয়ার। তিনিও ডট ও ছোট বড় লাইনের মাধ্যমে প্রকৃতি পরিবেশের ইমেজকে এতো সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেন যা যেকোন দর্শকের মাঝে একটা ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি করবে। তার ছবিতে ভাষার চেয়ে অবজেক্টের সুকৌলি উপস্থাপনা আলো ছায়া ও রংয়ের অনুভূতি এক নান্দনিক মাত্র তৈরি করে।
যারা সাধারণ কালি কলম, জলরং, তেল রং কিংবা প্রিন্ট মিডিয়ার কাজ দেখতে দেখতে ক্লান্ত বা একঘেঁয়েমিতে আক্রান্ত তাদের এই প্রদর্শনী দারুণ এক ভালো লাগা উপহার দেবে।
লেখক: কবি ও চিত্রশিল্পী
12-7-2026






